আগরতলা : দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জন্মদিন উপলক্ষে ভারতীয় জনতা পার্টি ও সরকারের উদ্যোগে চলছে নানা কার্যক্রম। গত ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়েছে সেবা পক্ষকাল কার্যক্রম। এরই অংশ হিসেবে বুধবার অনুষ্ঠিত হয় বিকশিত ভারত সংকল্প সভা – সেবা জ্যোতি যাত্রা। আগরতলার শিশু উদ্যান থেকে এই কার্যক্রমের সূচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা। এই কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করে মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহা বলেন, সেবা জ্যোতি যাত্রা শুধু একটা কর্মসূচি নয়, এটা মানুষের কাছে সেবা, জনকল্যাণ এবং বিভিন্ন সরকারি জনমুখী উদ্যোগ পৌঁছে দেওয়ার একটা প্রয়াস। মানুষের প্রতি সেবা ও সমাজে পিছিয়ে থাকা মানুষের জীবনে আশার আলো পৌঁছে দেওয়া এই কার্যক্রমের অন্যতম লক্ষ্য। এই আলো গ্রাম থেকে শহর এবং শহর থেকে প্রত্যন্ত অঞ্চলে মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আর সেই আলোর সঙ্গে পৌঁছে যাবে সেবা, সংকল্প ও উন্নয়নের বার্তা। অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ২০৪৭ সালে বিকশিত ভারত গড়ে তোলার যে স্বপ্ন আমাদের সামনে রেখেছেন সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে প্রতিটি মানুষের অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মানুষের মধ্যে আত্মবিশ্বাস জাগ্রত করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী বলছেন যে মানুষের সঙ্গে চলতে হবে এবং মানুষের সঙ্গে যুক্ত হয়ে উন্নয়নের কাজ ত্বরান্বিত করতে হবে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বিকশিত ভারত শুধু অর্থনৈতিক উন্নয়ন নয়, বিকশিত ভারত মানে সামাজিক ন্যায় ও সমতা, উন্নত শিক্ষা, স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং প্রযুক্তির অগ্রগতি। আমাদের যে ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতির সংরক্ষণ ও পরিবেশের সুরক্ষার সমন্বিত উন্নয়নই হচ্ছে বিকশিত ভারত। এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে প্রধানমন্ত্রী কাজ করছেন। আর আমাদের সরকার ও পার্টি সেই দিশায় কাজ করছে। সংস্কার, সম্পাদন এবং রূপান্তর – এই মন্ত্র নিয়ে কাজ করছে সরকার। মুখ্যমন্ত্রী আরো বলেন, আমাদের মূল লক্ষ্য সরকারি প্রকল্প ও পরিষেবার সুফল সমাজের অন্তিম ব্যক্তি পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়া। উন্নয়নের যাত্রায় কেউ যাতে পিছিয়ে না থাকে সেটাও নিশ্চিত করা সরকারের মুখ্য উদ্দেশ্য। আপনারা সকলেই জানেন গত ১৭ সেপ্টেম্বর ছিল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জন্মদিন। তাঁর জন্মদিন উপলক্ষে ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে ১ মাস ব্যাপী সেবা সংকল্প অভিযান শুরু হয়েছে। আলোচনায় মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহা আরো বলেন, ২০৪৭ সালে বিকশিত ভারত গড়ে তোলার লক্ষ্যে আমরা যে সংকল্প গ্রহণ করেছি, সেই সঙ্গে মশাল প্রজ্জ্বলন ও সেবা জ্যোতি মশাল নিয়ে সাইকেল ও বাইক র্যালির আয়োজন করা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে আমাদের রাজ্যে কেন্দ্রীয়ভাবে একটি সেবা জ্যোতি চক স্থাপন করা হবে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জন্মদিনকে আমরা সবসময় সেবা পক্ষকাল হিসেবে উদযাপন করি। কারণ সেবা, সুশাসন, দরিদ্র ও প্রান্তিক মানুষের কল্যাণ-এই ভাবনাগুলি তাঁর জীবনের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত ছিল। আলোচনায় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির শাসনে ভারত উন্নয়নের এক উল্লেখযোগ্য যাত্রার সাক্ষী হয়েছে। উনার কার্যকালে দেশের ২৫ কোটি মানুষকে দারিদ্র্য সীমার উপরে আনা হয়েছে। ৮০ কোটি নাগরিককে বিনামূল্যে রেশন প্রদান করা হয়েছে। ১০০ কোটি মানুষকে সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের আওতায় আনা হয়েছে। কোভিডের সময়ে ২০০ কোটির অধিক কোভিড টিকা প্রদান করা হয়েছে। এদিন এই কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন পর্যটন ও পরিবহণ দপ্তরের মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী, আগরতলা পুর নিগমের মেয়র তথা বিধায়ক দীপক মজুমদার, বিধায়ক রতন চক্রবর্তী সহ ভারতীয় জনতা পার্টির অন্যান্য শীর্ষ নেতৃত্ব।
আগরতলার শিশু উদ্যান থেকে সেবা জ্যোতি যাত্রার সূচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী
7