Home » তিন দিনের শিশুর জটিল অস্ত্রোপচারে নবজাতকের প্রাণরক্ষা আগরতলা জিবিপি হাসপাতালে, বিনামূল্যে চিকিৎসায় নজির চিকিৎসকদের

তিন দিনের শিশুর জটিল অস্ত্রোপচারে নবজাতকের প্রাণরক্ষা আগরতলা জিবিপি হাসপাতালে, বিনামূল্যে চিকিৎসায় নজির চিকিৎসকদের

by sokalsandhya
0 comments

আগরতলা : জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে থাকা এক নবজাতক কন্যাশিশুর খাদ্যনালী ও শ্বাসনালির জটিল ত্রুটি সফল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সারিয়ে তুললেন আগরতলা সরকারি মেডিকেল কলেজ ও জিবিপি হাসপাতালের চিকিৎসকরা। চিকিৎসা বিজ্ঞানের পরিভাষায় এই জটিল সমস্যাটি ‘ট্রাকিও-ইসোফেজিয়াল ফিস্টুলা’ (Tracheo-Esophageal Fistula) নামে পরিচিত। সম্পূর্ণ বিনামূল্যে সরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবার আওতায় এই চিকিৎসা সম্পন্ন হওয়ায় হাসপাতালের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ভূমিকায় নতুন করে আশার আলো দেখছে রোগীর পরিবার।

গত ৬ অক্টোবর ২০২৬ দক্ষিণ ত্রিপুরার গাবতলী এলাকার এক দম্পতির সদ্যোজাত কন্যাশিশুকে গুরুতর শারীরিক সমস্যা নিয়ে আগরতলা সরকারি মেডিকেল কলেজ ও জিবিপি হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। জন্মের পর থেকেই শিশুটির শ্বাস নিতে অসুবিধা হচ্ছিল এবং মুখ দিয়ে অতিরিক্ত লালা বের হচ্ছিল। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে শিশুটিকে হাসপাতালের পেডিয়াট্রিক বিভাগের নিওনেটাল ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (NICU) ভর্তি করা হয়।

পেডিয়াট্রিক বিভাগের অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর ও ইউনিট ইনচার্জ চিকিৎসক ডা. শ্রীবাস দাসের তত্ত্বাবধানে শিশুটির চিকিৎসা শুরু হয়। ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং বুকের এক্স-রে করার পর চিকিৎসকরা খাদ্যনালী ও শ্বাসনালির অস্বাভাবিক সংযোগজনিত জটিল রোগটি শনাক্ত করেন। এরপর দ্রুত অস্ত্রোপচারের প্রস্তুতি নেওয়া হয়।

গত ৭ অক্টোবর ২০২৬ হাসপাতালের কমপ্লেক্স সিটিজিএস সার্জন ডা. কনক নারায়ণ ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে চিকিৎসকদের একটি দল শিশুটির সফল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করেন। ‘রাইট সাইডেড থোরাকোটমি অ্যান্ড রিপেয়ার অফ ট্রাকিও-ইসোফেজিয়াল ফিস্টুলা’ পদ্ধতিতে এই অস্ত্রোপচার করা হয়। অস্ত্রোপচারের সময় অ্যানেস্থেসিয়ার দায়িত্বে ছিলেন ডা. রিমঝিম চাকমা ও ডা. মনিময় দেববর্মা।

অস্ত্রোপচারের পর শিশুটিকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। ধীরে ধীরে টিউবের মাধ্যমে খাবার দেওয়া শুরু হয় এবং পরবর্তী সময়ে শিশুটির শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলে টিউব সরিয়ে স্বাভাবিক স্তন্যপান শুরু করা হয়। টানা ১২ দিন এনআইসিইউতে চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণের পর শিশুটিকে নিওনেট ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে শিশুটি সুস্থ রয়েছে, স্বাভাবিকভাবে মায়ের দুধ পান করছে এবং চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছে। শীঘ্রই তাকে হাসপাতাল থেকে ছুটি দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

এই চিকিৎসার বিশেষ তাৎপর্য হলো, সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি ‘জননী শিশু সুরক্ষা কার্যক্রম’ (JSSK)-এর আওতায় সম্পন্ন হয়েছে। ফলে শিশুটির চিকিৎসার জন্য পরিবারকে কোনও অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হয়নি।

আজ আগরতলা গভমেন্ট মেডিকেল কলেজের কনফারেন্স হলে সাংবাদিক সম্মেলন করে সার্বিক বিষয়ে তুলে ধরলেন জিবি হাসপাতালের মেডিকেল সুপার ডক্টর বিধান গোস্বামী ,আগরতলা গভমেন্ট মেডিকেল কলেজের প্রিন্সিপাল ডক্টর তপন মজুমদার, জিবিপি হাসপাতালের শিশু বিভাগের প্রধান ডক্টর সঞ্জীব দেববর্মা সহ অন্যান্য ডাক্তাররা।

You may also like

Leave a Comment

Are you sure want to unlock this post?
Unlock left : 0
Are you sure want to cancel subscription?
-
00:00
00:00
Update Required Flash plugin
-
00:00
00:00

SOKAL SANDHYA is the Best Newspaper and Magazine 

Edtior's Picks

Latest Articles