রাজ্যে বিদ্যুৎ চুরি বন্ধের উপর জোর দিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মনোহর লাল

আগরতলা : রাজ্য সফরে এলেন কেন্দ্রীয় নগর উন্নয়ন ও বিদ্যুৎ দপ্তরের মন্ত্রী মনোহর লাল। রাজ্য সফরে এসে তিনি নগর উন্নয়ন দপ্তর ও বিদ্যুৎ দপ্তরের আধিকারিকদের নিয়ে পর্যালোচনা বৈঠক করেন। রাজ্য অতিথিশালার কনফারেন্স হলে আয়োজিত এই পর্যালোচনা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী ডাক্তার মানিক সাহা, রাজ্যের বিদ্যুৎ দপ্তরের মন্ত্রী রতনলাল নাথ সহ অন্যান্যরা। এইদিনের পর্যালোচনা বৈঠক শেষে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মনোহর লাল সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে জানান ২০২৭ সালের মার্চ মাসের মধ্যে রাজ্যে পিএম সূর্যঘড় যোজনা প্রকল্পে ২ লক্ষ পরিবারের মধ্যে সৌর শক্তির মাধ্যমে বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদান করা হবে। এই বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার জন্য প্রয়োজনে দিল্লি থেকে ভেন্ডর প্রেরন করা হবে। রাজ্যের বিদ্যুৎ নিগম দপ্তর প্রায় ২৬ শতাংশ লোকসানে চলছে। এই লোকসান কমানোর জন্য অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ চিহ্নিত করে বিদ্যুৎ চুরি বন্ধ করার উপর গুরুত্ব দেওয়া হবে। একই সাথে একটি প্রকল্প তৈরি করে যারা বিদ্যুৎ চুরি করছে তাদেরকে স্বেচ্ছায় বিদ্যুৎ-এর মিটার লাগানোর জন্য বলা হবে। এবং সময়সীমা বেধে দেওয়া হবে। এই সময়ের মধ্যে তারা বিদ্যুৎ-এর মিটার না লাগালে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বর্তমানে বিদ্যুৎ দপ্তরের ঘাটতি রয়েছে প্রায় ৮০০ কোটি টাকা। মুখ্যমন্ত্রীর নিকট তিনি আবেদন জানান এককালীন বিদ্যুৎ দপ্তরকে ৮০০ কোটি টাকা প্রদান করার জন্য। অন্যথায় কোন বিকল্প ব্যবস্থা করার জন্য। সকলকে স্মার্ট মিটার লাগানোর জন্য আহ্বান জানান তিনি। আগামি দিন গুলিতে রাজ্যে বিদ্যুৎ-এর চাহিদা কেমন থাকতে পারে, এবং কি পরিমাণ বিদ্যুৎ কোথা থেকে আসবে সেই বিষয় নিয়েও এইদিন আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি। তিনি আরও জানান ইন্টার স্টেট ট্রান্সমিশন লাইনের জন্য সার্ভে চলছে। সার্ভে শেষে ২০২৬ সালের জুলাই মাসের মধ্যে টেন্ডার ডাকা হবে। অপরদিকে নগর উন্নয়ন দপ্তরের বিষয় নিয়ে বলতে গিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জানান আগরতলা শহরের বর্জ্য প্রক্রিয়াকরনের জন্য ডিসি নগরে ডাম্পিং স্টেশনের জন্য ভারত সরকারের পক্ষ থেকে ১০০ কোটি টাকা প্রদান করা হয়েছে। সেই কাজ চলছে। এখনো কিছু কাজ বাকি রয়েছে। শহরে বাড়িঘর থেকে বর্জ্য সংগ্রহ করার ক্ষেত্রে কিছু ঘাটতি রয়েছে। সেই বিষয় নিয়ে এইদিন আলোচনা হয়েছে। স্বসহায়ক দলের সদস্যদের মাধ্যমে আগরতলা শহরের বাড়ি ঘড় থেকে বর্জ্য সংগ্রহ করা হয়। যে সকল পরিবার বর্জ্য সংগ্রহ কারিদের মাসিক টাকা দিতে নারাজ তারা যেন তাদের নিকটবর্তি ডাস্টবিনে বর্জ্য ফেলে তা বাধ্যতামূলক করার উপর জোর দেন তিনি। এইদিনের পর্যালোচনা বৈঠকে বিদ্যুৎ দপ্তরের সচিব, অধিকর্তা, নগর উন্নয়ন দপ্তরের সচিব, অধিকর্তা সহ সংশ্লিষ্ট দুই দপ্তরের বিভিন্ন স্তরের আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন।

Related posts

দুর্জয়নগর এএনএম বিল্ডিং সরজমিনে পরিদর্শন স্বাস্থ্য দপ্তরের সচিবের

প্রধানমন্ত্রী স্বনিধি প্রকল্পে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ঋন প্রদান করা হয়ঃকেন্দ্রীয় মন্ত্রী মনোহর লাল

দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের উপস্থিতিতে ফরোয়ার্ড ব্লকের রাজ্য দপ্তরে অনুষ্ঠিত হয় গুরুত্বপূর্ণ সভা