আগরতলা : সৌরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে রঞ্জি ট্রফির ম্যাচে শুরুতেই একের পর এক উইকেট হারিয়ে চরম চাপে পড়ে যায় ত্রিপুরা। মাত্র ২৮ রানের মধ্যে পাঁচ উইকেটের পতনে বড়সড় ব্যাটিং বিপর্যয়ের আশঙ্কা তৈরি হয়। তবে সেই কঠিন পরিস্থিতিতে একাই লড়াইয়ের মঞ্চ তৈরি করেন শ্রীদাম পল। দুরন্ত ব্যাটিংয়ে ৮৬ রান করে শতরানের সম্ভাবনা জাগিয়েও শেষ পর্যন্ত ১৪ রানের আক্ষেপ নিয়ে ফিরতে হয় তাঁকে। পরবর্তীতে মানিসংকর মুরাসিং ও বিক্রম দেবনাথের দৃঢ়তায় ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই অব্যাহত রাখে রাজ্য দল।টসে জিতে প্রথমে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সৌরাষ্ট্র। শুরু থেকেই সেই সিদ্ধান্তের যথার্থতা প্রমাণ করতে থাকেন দলের বোলাররা। ত্রিপুরার ব্যাটিং অর্ডারে একের পর এক আঘাত হেনে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেওয়ার চেষ্টা করেন তাঁরা।ত্রিপুরার ইনিংসের শুরুটা ছিল অত্যন্ত হতাশাজনক। বিক্রমকুমার দাস ৮, বাবুল দে ১, লক্ষয় থারেজা শূন্য, সন্দীপ সরকার ৫ এবং মন্দীপ সিং মাত্র ৩ রান করে সাজঘরে ফেরেন। ফলে স্কোরবোর্ডে মাত্র ২৮ রান উঠতেই পাঁচ উইকেট হারিয়ে কার্যত দিশেহারা হয়ে পড়ে ত্রিপুরা।এই পরিস্থিতিতে দলের হাল ধরেন শ্রীদাম পল। বিপর্যয়ের মুখেও নিজের স্বাভাবিক ব্যাটিং বজায় রেখে সৌরাষ্ট্রের বোলারদের বিরুদ্ধে পাল্টা লড়াই শুরু করেন তিনি। ১৩৬ বলের ইনিংসে ছয়টি চার ও চারটি ছক্কার সাহায্যে ৮৬ রান সংগ্রহ করেন শ্রীদাম। তাঁর ব্যাটিংয়েই ত্রিপুরার ইনিংসে নতুন করে প্রাণ ফিরে আসে। তাঁকে যোগ্য সহযোগিতা করেন উইকেটরক্ষক সেন্টু সরকার। ১১৬ বল খেলে পাঁচটি বাউন্ডারির সাহায্যে ৪৬ রান করেন তিনি। দুজনের গুরুত্বপূর্ণ জুটি দলকে প্রাথমিক বিপর্যয় কাটিয়ে ওঠার সুযোগ করে দেয়।
শ্রীদামের বিদায়ের পরও লড়াই থামেনি ত্রিপুরার। অধিনায়ক মানিসংকর মুরাসিং দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ের পরিচয় দিয়ে ৫৫ বলে ৩৩ রান করে অপরাজিত থাকেন। অন্যদিকে বিক্রম দেবনাথ ৫০ বলের মোকাবিলায় ৩২ রান করে অপরাজিত থেকে তাঁকে সঙ্গ দেন। তাঁদের এই প্রতিরোধে ত্রিপুরার ইনিংসে ফের লড়াইয়ের আবহ তৈরি হয়।
সৌরাষ্ট্রের বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল পার্থ ভুত। ১৯ ওভারে ৫২ রান খরচ করে তিনটি উইকেট তুলে নেন তিনি। চেতন সাকারিয়া ১০ ওভারে মাত্র ২৬ রান দিয়ে দুটি উইকেট দখল করেন। এছাড়া সন্দীপ গজ্জর ও যশ ডোদিয়া একটি করে উইকেট পান।প্রথম দিনের ব্যাটিং বিপর্যয় সামলে শ্রীদামের অসাধারণ ইনিংস এবং শেষদিকে মুরাসিং ও বিক্রমের প্রতিরোধ ত্রিপুরাকে লড়াইয়ে ফিরিয়েছে। তবে শ্রীদামের শতরান থেকে মাত্র ১৪ রান দূরে থেমে যাওয়াটা দলের পাশাপাশি ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছেও আক্ষেপের বিষয় হয়ে থাকল। এবার সৌরাষ্ট্রের ইনিংসে ত্রিপুরার বোলাররা কতটা কার্যকর ভূমিকা নিতে পারেন, তার উপরই নির্ভর করবে ম্যাচের পরবর্তী গতিপ্রকৃতি।