Home First post উনকোটিতে ২১টি উন্নয়নমূলক প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন মুখ্যমন্ত্রী

উনকোটিতে ২১টি উন্নয়নমূলক প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন মুখ্যমন্ত্রী

বিরোধী দলগুলো এখন সব জায়গা থেকেই ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে: মুখ্যমন্ত্রী

by sokalsandhya
0 comments

কুমারঘাট : দীর্ঘদিন ধরে শাসন ব্যবস্থায় থাকা সত্ত্বেও সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নত করতে এবং রাজ্যের উন্নয়নে কাজ করতে ব্যর্থ হওয়ার জন্য আজ বামফ্রন্ট সরকারকে তীব্র ভাষায় সমালোচনা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা।

 

আজ উনকোটি জেলার কুমারঘাটের গীতাঞ্জলি অডিটোরিয়ামে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে তদানীন্তন বাম সরকারকে নিশানা করেন মুখ্যমন্ত্রী। এদিন ডাঃ সাহা ৪০ কোটি টাকারও বেশি ব্যয়ে নির্মিত এবং বাস্তবায়িত ২১টি প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

 

পরে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহা বলেন, ত্রিপুরার সর্বত্র বর্তমান রাজ্য সরকার প্রতিদিন বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে চলেছে।

তিনি বলেন, “২০১৮ সালে আমাদের সরকার ক্ষমতায় আসার আগে আমরা শুনতে পেতাম যে রাজ্যে ‘স্বর্ণযুগ’ চলছে। কিন্তু আমাদের সরকার ক্ষমতায় আসার পর আমরা কী দেখতে পেলাম? সোনা নয়, বরং ১৩,০০০ কোটি টাকার ঋণ। পূর্ববর্তী সরকার যদি কিছু কাজ করত, তবে আমাদের কাজ অনেক সহজ হতো। কিন্তু বিজেপি সরকার গঠিত হওয়ার পর মানুষ বুঝতে পেরেছে উন্নয়ন আসলে কী। তবে তারা (বিরোধী দলগুলো) সেই উন্নয়ন দেখতে পায় না।”

 

মুখ্যমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সবসময় এই নির্দেশই দিয়ে আসছেন যে উন্নয়ন ছাড়া অন্য কোনো কথার স্থান নেই। তাই আমাদের উন্নয়ন এবং সকলের কল্যাণের জন্য কাজ করতে হবে। ডবল ইঞ্জিন সরকার এখন অত্যন্ত দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে এবং বিরোধী দলগুলোর উচিত আমাদের সঙ্গে যোগ দেওয়া, নতুবা তারা স্টেশনেই আটকে থাকবে এবং ‘ককরোচ পার্টি’-এর পেছনে ঘুরে বেড়াবে। প্রধানমন্ত্রী মোদির নেতৃত্বে ভারত এখন উন্নয়ন ও অগ্রগতির পথে রয়েছে এবং ত্রিপুরাতেও আমরা একই কাজ করছি। উন্নয়নের অর্থ হলো শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন। ত্রিপুরায় যোগাযোগ ব্যবস্থার যথেষ্ট উন্নতি হয়েছে। আমাদের একটি ‘শ্রেষ্ঠ ত্রিপুরা’ গড়ে তোলার জন্য কাজ করতে হবে। যখন এই ক্ষেত্রগুলোর বিকাশ ঘটবে, তখনই ‘শ্রেষ্ঠ ত্রিপুরা’ গড়ার লক্ষ্য পূরণ হবে। একটি ‘নতুন ভারত’ ও একটি ‘নতুন ত্রিপুরা’ গড়ে তুলতে আমাদের সকলকে একসাথে কাজ করতে হবে।

 

মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, পূর্ববর্তী সরকার কখনই কাজের প্রতি মনোনিবেশ করেনি এবং সেই কারণেই তারা আজ ধীরে ধীরে অস্তিত্ব হারাচ্ছে। সেসময় গ্রাম পঞ্চায়েত বা ভিলেজ কমিটি নির্বাচন থেকে বঞ্চিত ছিল, কিন্তু তবুও নিজেদের অস্তিত্ব প্রমাণ করার জন্য এখন তারা দিল্লিতে ছুটছে।

 

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, মানুষের জীবন পরিবর্তনের যে সুযোগ তারা পেয়েছিল, তা তারা হারিয়ে ফেলেছে। আমাদের সরকার ক্ষমতায় আসার পর, আজ আমরা এখানে ৪০ কোটি টাকারও বেশি ব্যয়ে ২১টি প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছি। বৃষ্টির কারণে আমাদের বিভিন্ন সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। এ বছর মার্চ মাস থেকেই বৃষ্টি শুরু হয়েছে। কাজ করার জন্য আমরা মাত্র চার মাস সময় পেয়েছি। বিরোধীরা সর্বদা সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার কাজ করে। আমি বারবার কেন্দ্রের কাছে এই বিষয়গুলো তুলে ধরেছি। আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের জন্য কাজ করতে হবে। যখনই আমরা সুযোগ পাব, আমাদের কাজ করতে হবে। তৃণমূল স্তর থেকে শুরু করে পুরো রাজ্য ও প্রতিটি খাতের উন্নয়নের জন্য আমাদের কাজ করতে হবে। নারী, কৃষক, দরিদ্র এবং যুবসমাজের বিকাশ অত্যন্ত জরুরি।

 

মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, আগরতলা সহ মোট ১৯টি শহরের জন্য জিআইএস (GIS) মাস্টার প্ল্যান তৈরি করছে সরকার। এছাড়া ধর্মনগর, উদয়পুর এবং আগরতলায় স্যাটেলাইট টাউন গড়ে তোলার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।

 

                       অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রী সান্তনা চাকমা, মন্ত্রী শুক্লা চরণ নোয়াতিয়া, উনকোটি জিলা পরিষদের সভাধিপতি অমলেন্দু দাস, সচিব কিরণ গিত্যে, সচিব অভিষেক সিং, জেলাশাসক মেঘা জৈন, পুলিশ সুপার ঋষভ সহ অন্যান্য পদস্থ আধিকারিকগণ।

You may also like

Leave a Comment

Are you sure want to unlock this post?
Unlock left : 0
Are you sure want to cancel subscription?
-
00:00
00:00
Update Required Flash plugin
-
00:00
00:00

SOKAL SANDHYA is the Best Newspaper and Magazine 

Edtior's Picks

Latest Articles