এসআইআর ইস্যুতে বিরোধীদের বিক্ষোভ, পাল্টা হুঁশিয়ারি বিজেপির ‘চিহ্নিত করো, নাম মোছো, দেশ থেকে তাড়াও!’

বিজেপির সোশ্যাল মিডিয়া থেকে নেওয়া ছবি

আগরতলা : এসআইআর বা বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমশ বাড়ছে। ভোটার তালিকা থেকে গণহারে নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ তুলে কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে বিরোধী দলগুলি। এই পরিস্থিতিতে অনুপ্রবেশকারী ও অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে নিজেদের কঠোর অবস্থান ফের স্পষ্ট করল বিজেপি। সমাজমাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের ছবি পোস্ট করে দলের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছে জোরালো বার্তা— ‘চিহ্নিত করো, নাম মোছো, দেশ থেকে তাড়াও’।

 

বিজেপির বক্তব্য, দেশের ভোটার তালিকায় অবৈধ অভিবাসীদের নাম থাকা উচিত নয়। তাঁদের চিহ্নিত করে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার পাশাপাশি আইন মেনে দেশ থেকে বিতাড়নের পক্ষেও সওয়াল করে আসছে কেন্দ্রের শাসক দল। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-সহ বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব অতীতেও একাধিকবার অভিযোগ করেছেন, অনুপ্রবেশকারীরা বেআইনিভাবে দেশের ভোটার তালিকায় নিজেদের নাম অন্তর্ভুক্ত করেছেন। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে এই বিষয়টি বারবার প্রচারে তুলে ধরেছে বিজেপি।

 

শনিবার বিকেলে বিজেপির সমাজমাধ্যমের হ্যান্ডলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও অমিত শাহের ছবি প্রকাশ করে লেখা হয়, “তিনটি শব্দ। সংকল্প একটাই— চিহ্নিত করো, নাম মোছো এবং দেশ থেকে তাড়াও।” রাজনৈতিক মহলের মতে, এসআইআর নিয়ে বিরোধীদের লাগাতার প্রতিবাদের আবহে এই বার্তার মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান আরও একবার স্পষ্ট করতে চেয়েছে বিজেপি।

 

অন্যদিকে, একই দিনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও সমাজমাধ্যমে ৫১ সেকেন্ডের একটি ভিডিও বার্তায় দেশবাসীকে দীপাবলির শুভেচ্ছা জানান। সেখানে তিনি অন্ধকারের বিরুদ্ধে লড়াই এবং আলোর শক্তির বার্তা তুলে ধরেন। যদিও প্রধানমন্ত্রীর ওই ভিডিওতে এসআইআর কিংবা অনুপ্রবেশ নিয়ে সরাসরি কোনও মন্তব্য করা হয়নি।

 

এদিকে, ত্রিপুরার আশাবাড়িতে বিএসএফের উপর দুষ্কৃতীদের হামলার অভিযোগের পর সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিতে নিরাপত্তা ও নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। শনিবার সিপাহিজলা জেলার বিভিন্ন গ্রামে তল্লাশি চালানোর পাশাপাশি অনুপ্রবেশকারী সন্দেহে কয়েকজনকে আটক করে পরিচয় যাচাইয়ের জন্য থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকার জমির নথিপত্রও খতিয়ে দেখেন প্রশাসনিক আধিকারিকেরা। সরকারি জমিতে বেআইনিভাবে কেউ বসবাস করছেন কি না, তাও পরীক্ষা করা হয়।

 

অন্যদিকে, এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে বিরোধীদের প্রতিবাদ অব্যাহত রয়েছে। বিরোধী শিবিরের অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সাধারণ ভোটারদের হয়রানি করা হচ্ছে এবং বহু মানুষের ভোটাধিকার সংকটে পড়তে পারে। ফলে একদিকে বিজেপির অনুপ্রবেশবিরোধী কঠোর অবস্থান, অন্যদিকে বিরোধীদের এসআইআর-বিরোধী আন্দোলন— দুইয়ের সংঘাতে জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনার পারদ চড়ছে।

 

সব মিলিয়ে, এসআইআর বিতর্কের মধ্যেই অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে বিজেপির এই বার্তা রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চার বিষয়

হয়ে উঠেছে।

Related posts

‘দিল্লি নয়, পিন্ডি নয়, সবার আগে বাংলাদেশ’ ভারত-পাকিস্তানকে সমান দূরত্বে রাখার বার্তা তারেক রহমানের

বিএসএফ-এর উপর আক্রমণের জেরে রহিমপুর বাজারে অভিযান কেন্দ্র ও রাজ্যের যৌথ বাহিনীর

সোনামুড়া নগর পঞ্চায়েতের নির্বাচনে আশা কর্মী প্রার্থী নিয়ে আপত্তি বিরোধীদের