‘দিল্লি নয়, পিন্ডি নয়, সবার আগে বাংলাদেশ’ ভারত-পাকিস্তানকে সমান দূরত্বে রাখার বার্তা তারেক রহমানের

আগরতলা : ভারত ও পাকিস্তান উভয় দেশের থেকেই সমান দূরত্ব বজায় রেখে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার বার্তা দিলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার ঢাকায় ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “দিল্লি নয়, পিন্ডি (রাওয়ালপিন্ডি) নয়, নয় অন্য কেউ সবার আগে বাংলাদেশ।”

 

ক্ষমতায় আসার আগে থেকেই বাংলাদেশের স্বার্থকে সর্বাগ্রে রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছিলেন তারেক রহমান। নির্বাচনী প্রচারেও বারবার এই অবস্থানের কথা তুলে ধরেছিলেন তিনি। এবার ক্ষমতায় আসার প্রায় নয় মাস পর ফের একই অবস্থান স্পষ্ট করলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, বাংলাদেশকে আর কোনওভাবেই তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত হতে দেওয়া হবে না।

 

শনিবার ঢাকার বনানীতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তারেক রহমান বলেন, ভবিষ্যতে কেউ যেন বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং জনগণের অধিকার হরণ করতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে। কোনও বিদেশি শক্তির প্রভাবের অধীনে নয়, বরং বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থ ও আকাঙ্ক্ষার ভিত্তিতেই দেশ পরিচালিত হবে বলে বার্তা দেন তিনি।

 

উল্লেখ্য, শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর থেকেই বাংলাদেশে ভারতবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান সামনে এসেছে। বিশেষ করে ‘দিল্লি নয়, ঢাকা’ স্লোগান ঘিরে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র নেতাদের বক্তব্যেও এই ধরনের সুর শোনা গিয়েছে। অন্যদিকে, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা বৃদ্ধি নিয়েও বিভিন্ন মহলে আলোচনা হয়েছে। এই রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তারেক রহমানের ‘দিল্লি নয়, পিন্ডি নয়’ মন্তব্যকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

 

এদিনের বক্তব্যে বাংলাদেশের ইতিহাসের দুটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়—১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন তারেক রহমান। তাঁর কথায়, “১৯৭১ সালের যুদ্ধ ছিল স্বাধীনতা অর্জনের যুদ্ধ, আর ২০২৪ সাল ছিল দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার লড়াই।” ২০২৪ সালের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ফ্যাসিবাদ থেকে মুক্ত হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

 

তারেক রহমানের এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার অবস্থান আরও একবার স্পষ্ট হলো। একই সঙ্গে ভারত ও পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভারসাম্য বজায় রাখার বার্তাও দিলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী।

Related posts

নেতানিয়াহুর পাশে নেই জোটসঙ্গী ইউটিজে, সরকার গঠন নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা ইজরায়েলে

এসআইআর ইস্যুতে বিরোধীদের বিক্ষোভ, পাল্টা হুঁশিয়ারি বিজেপির ‘চিহ্নিত করো, নাম মোছো, দেশ থেকে তাড়াও!’

বিএসএফ-এর উপর আক্রমণের জেরে রহিমপুর বাজারে অভিযান কেন্দ্র ও রাজ্যের যৌথ বাহিনীর