আগরতলা : মুখ্যমন্ত্রী সহ মণ্ডল সভাপতি ইন হতেই আউট প্রদেশ বিজেপির সহসভানেত্রী। ৬ আগরতলা বিধানসভা কেন্দ্রের ভগৎ সিং যুব আবাসে মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিতে সাংগঠনিক বৈঠকের এই চিত্র কিসের ইঙ্গিত। বৃহস্পতিবার বিজেপি ৬ আগরতলা মণ্ডলের সাংগঠনিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় ভগৎ সিং যুব আবাসে। মুখ্যমন্ত্রী ডাক্তার মানিক সাহার উপস্থিতিতে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত। বৈঠক শুরুর প্রাক মুহূর্ত পর্যন্ত সবকিছু ঠিকঠাক ছিল। সেখানে উপস্থিত ছিলেন প্রদেশ বিজেপির সহসভানেত্রী তথা ৬ আগরতলা কেন্দ্রের দিদি হিসাবে পরিচিত পাপিয়া দত্ত। তিনি নিজের অনুগামিদের নিয়ে সেই সাংগঠনিক বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। তখনও অবশ্য মুখ্যমন্ত্রী সেখানে উপস্থিত হন নি। কিছু সময় বাদে মুখ্যমন্ত্রী সহ মণ্ডল সভাপতি ভগৎ সিং যুব আবাসে উপস্থিত হন সাংগঠনিক বৈঠকে অংশগ্রহণ করার জন্য। মণ্ডল সভাপতি সেখানে উপস্থিত হতেই যেন তাল কেটে সুর বেসুরু হয়ে গেল। আচমকা ভগৎ সিং যুব আবাস থেকে বেরিয়ে যান পাপিয়া দত্ত। তার পিছু পিছু এক দুইজন করে বেরিয়ে যান পাপিয়া দত্তর অনুগামীরা। এইদিকে সাংগঠনিক বৈঠকের ঘোষক মঞ্চে আসন অলঙ্কিত করার জন্য বারে বারে পাপিয়া দত্তর নামে ঘোষণা করে যাচ্ছেন। কিন্তু পাপিয়া দত্ত আর সাংগঠনিক বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন নি। তিনি নিজের অনুগামীদের নিয়ে সেখান থেকে কেটে পড়েন। শেষ পর্যন্ত পাপিয়া দত্তর অনুপস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী, প্রদেশ বিজেপি সভাপতি, বিজেপি নেতা অশোক সিনহা, অসীম ভট্টাচার্য ও মণ্ডল সভাপতির উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হয় সাংগঠনিক বৈঠক। প্রশ্ন হচ্ছে যে বৈঠকে খোদ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও প্রদেশ বিজেপি সভাপতি উপস্থিত ছিলেন সেখান থেকে কেন নিরবে কেটে পড়লেন পাপিয়া দত্ত। তাহলে কি মণ্ডল সভাপতির সাথে পাপিয়া দত্তর মধ্যে মত পার্থক্য রয়েছে ? ৬ আগরতলা বিধানসভা কেন্দ্রের ভগৎ সিং যুব আবাসে মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিতে সাংগঠনিক বৈঠকের এই চিত্র কিসের ইঙ্গিত ? তাহলে কি ৬ আগরতলা মণ্ডলেও গোষ্ঠী কোন্দল প্রকট হচ্ছে ? তা যদি হয়ে থাকে তাহলে তা শাসক দলের জন্য ক্ষতিকারক। কারন এমনিতেই ২০২৩ সালের বিধানসভা নির্বাচনে আপ্রান চেষ্টা করেও পাপিয়া দত্ত সুদীপ রায় বর্মণের কাছে পরাজিত হন। বৃহস্পতিবার যে চিত্র দেখা গেছে তা যদি আরও প্রকট হয় তাহলে ২০২৮ সালের বিধানসভা নির্বাচনেও ৬ আগরতলা বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপির জয়ের স্বপ্ন অধরা থেকে যাবে।
বিজেপি ৬ আগরতলা মণ্ডলে গোষ্ঠী কোন্দলের ইঙ্গিত প্রকাশ্যে
2