আগরতলা : খার্চি পুজার মূল উদ্দেশ্য হল পৃথিবী মাতার বন্দনা করা। খার্চি শব্দের উৎপত্তি খা অর্থাৎ পৃথিবী থেকে। খার্চি পুজাকে শুধুমাত্র একটা পূজা ভাবলে ভুল হবে। খার্চি পূজা ত্রিপুরার ইতিহাস, সংস্কৃতি, আর্ধাত্মিক চেতনা এবং জাতি জনজাতির ঐক্যের একটা উজ্জল প্রতিক। প্রতি বছর আষাঢ় মাসের শুক্লা অষ্টমী তিথিতে খার্চি পূজা অনুষ্ঠিত হয়। খার্চি পুজায় ত্রিপুরার পাশাপাশি বহিঃরাজ্য থেকেও মানুষ শামিল হয়। চতুর্দশ দেবতা হচ্ছেন রাজ বংশের কুল দেবতা। খার্চি পুজার পুরহিত হলেন চন্তাই। চতুর্দশ দেবতার মধ্যে তিন জন দেব দেবীর পূজা করা হয় সমগ্র বছর। খার্চি পূজায় বহু মানুষ পূজা দিতে আসে। বুধবার চতুর্দশ দেবতা মন্দির চত্বরে ঐতিহ্যবাহী খার্চি পূজা ও মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করে এই কথা বলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ডাক্তার মানিক সাহা। এইদিনের অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন বুধবার থেকে শুরু হওয়া খার্চি পূজা ও মেলা ২৮ জুলাই পর্যন্ত চলবে। এইবারের খার্চি মেলার থিম হল এক পের মা কে নাম। খার্চি মেলায় ২২ টি প্রদর্শনী স্টল খোলা হয়েছে। চতুর্দশ দেবতা বাড়ি বর্তমানে ত্রিপুরা রাজ্যের একটা অন্যতম ধর্মীয় পর্যটন কেন্দ্র। চতুর্দশ দেবতা মন্দিরকে নতুন করে সাজিয়ে তোলার কাজ করছে পর্যটন দপ্তর। যাতে করে আরও বেশি করে পর্যটক চতুর্দশ দেবতা বাড়িতে আসে। ঐতিহ্যকে সংরক্ষণ করে উন্নয়নকে সামনের দিকে নিয়ে গেলে তবেই এক ত্রিপুরা শ্রেষ্ঠ ত্রিপুরা হবে। ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং উন্নয়ন একে অপরের পরিপূরক। এইদিনের অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন এলাকার বিধায়ক তথা মেলা কমিটির চেয়ারম্যান রতন চক্রবর্তী, আগরতলা পৌর নিগমের মেয়র দীপক মজুমদার, পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার জেলা শাসক ডাঃ বিশাল কুমার, পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার পুলিশ সুপার সহ অন্যান্যরা।
চতুর্দশ দেবতা মন্দির চত্বরে ঐতিহ্যবাহী খার্চি পূজা ও মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করলেন মুখ্যমন্ত্রী
3