আগরতলা : জাতি, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের অংশগ্রহণে দুর্গোৎসব ত্রিপুরায় ঐক্য, সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করেছে। দুর্গাপুজো এবং ‘মায়ের গমন’ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে রাজ্যে উৎসবের আবহে দেশ-বিদেশের প্রতিনিধিদের উপস্থিতি ত্রিপুরার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে আন্তর্জাতিক স্তরে তুলে ধরার নতুন সুযোগ তৈরি করেছে বলে মন্তব্য করলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা।
বৃহস্পতিবার আগরতলার রবীন্দ্র শতবার্ষিকী ভবনের ১ নম্বর হলে তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের উদ্যোগে আয়োজিত ‘শারদ সম্মান-২০২৬’ অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করে এই কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আগরতলা পুর নিগমের মেয়র তথা বিধায়ক দীপক মজুমদার, অনুষ্ঠানের সভাপতি ও রাজ্যভিত্তিক সাংস্কৃতিক উপদেষ্টা কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান সুব্রত চক্রবর্তী, তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের সচিব কিরণ গিত্যে এবং দপ্তরের অধিকর্তা বিম্বিসার ভট্টাচার্য-সহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, একসময় প্রতিমা নিরঞ্জনকে ঘিরে রাজ্যে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হতো। কিন্তু বর্তমানে ত্রিপুরায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দুর্গোৎসব উদযাপিত হচ্ছে। এই শান্তি ও সম্প্রীতির পরিবেশকে আরও সুদৃঢ় করার জন্য সকলকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
এবারের দুর্গোৎসবের অন্যতম আকর্ষণ ছিল ‘মায়ের গমন’ অনুষ্ঠান। এই অনুষ্ঠানে বিদেশি কূটনৈতিক প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন দেশের উচ্চপদস্থ প্রতিনিধিদের উপস্থিতি বিশেষ গুরুত্ব বহন করেছে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, আগামী বছর এই ধরনের অনুষ্ঠানে আরও বেশি সংখ্যক দেশি-বিদেশি অতিথিকে আমন্ত্রণ জানানোর উদ্যোগ নেবে রাজ্য সরকার। এর ফলে বিদেশি অতিথিদের সঙ্গে সাংস্কৃতিক বিনিময়ের পাশাপাশি ত্রিপুরার ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও পর্যটনকে আন্তর্জাতিক স্তরে তুলে ধরার সুযোগ বাড়বে।
দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে পরিবেশ সংরক্ষণ, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং শিল্পকলার বিকাশে ক্লাব ও পুজো কমিটিগুলির ভূমিকার প্রশংসা করেন মুখ্যমন্ত্রী। ‘শারদ সম্মান’-এর মাধ্যমে সেরা পুজো উদ্যোক্তা ও ক্লাবগুলির সৃজনশীলতা এবং সামাজিক দায়বদ্ধতাকে স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি। যেসব ক্লাব এবার পুরস্কার পায়নি, তাদেরও অভিনন্দন জানিয়ে আগামী দিনে আরও ভালো কাজ করার আহ্বান জানান মুখ্যমন্ত্রী।
তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের সচিব কিরণ গিত্যে বলেন, দুর্গোৎসব রাজ্যের স্থানীয় শিল্পী ও কারিগরদের প্রতিভা এবং শিল্পকুশলতা তুলে ধরার অন্যতম বড় মঞ্চ। এই উৎসব রাজ্যের সৃজনশীলতা ও সামাজিক সম্প্রীতির উজ্জ্বল প্রতিফলন। তিনি জানান, দুর্গাপুজোর আয়োজনকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে বিভিন্ন পুজো কমিটি, শিল্পী ও সামাজিক সংগঠন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
এবারের ‘মায়ের গমন-২০২৬’ অনুষ্ঠানে প্রথম স্থান অধিকার করেছে আগরতলার শতদল সংঘ। দ্বিতীয় স্থান পেয়েছে আগরতলার সংহতি ক্লাব এবং তৃতীয় স্থান অধিকার করেছে আগরতলার বর্ডার মাউন্ট ক্লাব।
এছাড়া সেরা প্রতিমা, সেরা মণ্ডপসজ্জা, সেরা থিম এবং সেরা পরিবেশবান্ধব বিভাগের জন্য পশ্চিম জেলার ১৫টি ক্লাবকে শরৎ সম্মান প্রদান করা হয়। পশ্চিম জেলা ছাড়াও রাজ্যের বাকি সাতটি জেলার মোট ২৮টি ক্লাবকে সম্মানিত করা হয়।
অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী-সহ অতিথিরা বিজয়ী ক্লাবগুলির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের হাতে ট্রফি, প্রশংসাপত্র এবং আর্থিক পুরস্কার তুলে দেন। অনুষ্ঠানের শেষে তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের পক্ষ থেকে ‘শারদ সম্মান’ ও ‘মায়ের গমন-২০২৬’-এর ওপর একটি তথ্যচিত্রও প্রদর্শিত হয়।
দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে ঐতিহ্য, আধুনিকতা, পরিবেশ সচেতনতা ও সামাজিক সম্প্রীতির সমন্বয় ঘটিয়ে ত্রিপুরাকে পর্যটনের অন্যতম আকর্ষণীয় কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিশিষ্টজনেরা।