আগরতলা : এডিসি এলাকায় ভারতীয় জনতা পার্টি ছাড়া জনজাতিদের উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাই আগামী এডিসি নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টির প্রার্থীদের জয় সুনিশ্চিত করতে হবে। জাতি জনজাতি মণিপুরী সংখ্যালঘু সকলকে নিয়ে আমরা একটা নতুন ত্রিপুরা তৈরি করতে চাই।
আজ গোমতী জেলার আঠারোভোলায় বাগমা মন্ডলের উদ্যোগে আয়োজিত এক যোগদান সভায় উপস্থিত থেকে একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা।
জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহা বলেন, এই বাগমা বিধানসভা কেন্দ্রে আগেও কয়েকবার এসেছি আমি। এই কেন্দ্রেই সবচাইতে বেশি আসতে হয়েছে আমাকে। গত পরশুদিন দিন দিল্লি থেকে ফিরে গতকালই আমি খুমুলুঙে গিয়েছি। জনজাতি ভাইবোনদের নিয়ে সেখানে একটা বিশাল বড় র্যালি হয়েছে। এডিসির সদর কার্যালয়ে সেই র্যালি নিয়ে ইতিমধ্যে কম্পন শুরু হয়ে গেছে। তারা বুঝতে পেরেছে যে জনজাতি ভাইবোনেরা ভারতীয় জনতা পার্টির উপর আস্থা বিশ্বাস রেখেছে। যতক্ষন পর্যন্ত ভারতীয় জনতা পার্টি এডিসিতে সরকার গঠন করতে না পারে ততক্ষণ পর্যন্ত জনজাতিদের উন্নয়ন সম্ভব নয়। ভারতীয় জনতা পার্টি মানে উন্নয়ন। এই পার্টির কাছে উন্নয়ন ছাড়া কোন কথা নেই। ভারতীয় জনতা পার্টির এক একজন কর্মী সকাল ৬টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত কাজ করেন। যেখানে অন্যান্য পার্টির কাছে এধরণের কোন পদ্ধতি নেই। তারা শুধু নিজেদের জন্য চিন্তাভাবনা করেন, নিজের উন্নয়নের কথা চিন্তা করেন। তাদের কাছে প্রথমে নিজে, তারপর বাদবাকি। আর আমাদের ভারতীয় জনতা পার্টির নীতি হচ্ছে প্রথমে রাজ্য, দেশ, তারপর পার্টি, তারপর নিজে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এতদিন ধরে দেখছেন যারা এডিসিকে পরিচালনা করেছে কিভাবে করেছে? মনে হচ্ছে এডিসি যেন তাদের কাছে একটা টাকার খাজনা। এখানে যেভাবে হোক সেই জায়গা দখল করতে হবে এবং লুটেপুটে খাবো – এই ছিল মুখ্য উদ্দেশ্য। কিন্তু ভারতীয় জনতা পার্টির যিনি সর্বময় কর্তা, যিনি অভিভাবক তিনি হচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলেছেন, ম্যা খুদ ভি নেহি খায়ুঙ্গা, অর দুসরে কো ভি খানে নেহি দুঙ্গা। আমাদের ডাবল ইঞ্জিন সরকারে প্রধানমন্ত্রী যেভাবে অনুপ্রাণিত করেন সেভাবে আমাদেরও চলতে হয়। প্রত্যেকটি পয়সা মানুষের উন্নয়নে নিয়োজিত করতে হবে। সেই দিশায় ভারতীয় জনতা পার্টি কাজ করছে।
বক্তব্যে মুখ্যমন্ত্রী আরো বলেন, ২০১৮ সালের আগে অনেকে অনেক কথা বলেছেন যে ত্রিপুরায় কমিউনিস্টদের সরানো যাবে না। কিন্তু আপনারা সবাই মিলে এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মার্গ দর্শনে ৩৫ বছরের দুঃশাসন হঠিয়ে ভারতীয় জনতা পার্টির সরকার ত্রিপুরায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। গত ৮ বছর ধরে আমরা সরকার চালাচ্ছি। কেউ বলতে পারবেন না কোন জায়গার মধ্যে দুর্নীতির আশ্রয় নেওয়া হয়েছে। তাই বলছি যে এখানে থানসা থানসা থানসা করা হচ্ছে। আমি যে কাজটা করি, পরের দিন তারাও সেই একই কাজ করছে। এদিকে প্রধানমন্ত্রী বলছেন সবকা সাথ, সবকা বিকাশ, সবকা বিশ্বাস ও সবকা প্রয়াস। অর্থাৎ সকল অংশের মানুষের বিকাশ। আমরা সবার উন্নয়নের কথা বলছি। তাই আমরাই প্রকৃত থানসা। জাতি জনজাতি মণিপুরী সংখ্যালঘু সকল অংশের মানুষকে নিয়ে আমরা একটা নতুন ত্রিপুরা তৈরি করতে চাই। আগে বলছে থানসা থানসা। এখন দেখা যাচ্ছে যে তারা সংখ্যালঘু আর বাঙালিদেরও নিয়ে এসেছে। তবে সেখানে আমাদের কথাটাই সত্যি। মিথ্যে প্রলোভন, মিথ্যে সুড়সুড়ি, সাম্প্রদায়িক সুড়সুড়ি দিয়ে এতদিন রাজনীতি করা হয়েছে। তাদের নিজেদের উপর নিজেদের বিশ্বাস নেই। তাই এখন পদের প্রলোভন দিয়ে বিভিন্ন সম্প্রদায় থেকে নেওয়া হচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বলেন, তৎকালীন সময়ে রাজ্যের জনজাতিদের বিভ্রান্ত করে উগ্রপন্থার দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। এই কমিউনিস্টরা তাদের সময়ে এসব সৃষ্টি করেছিল। কারণ তারা সন্ত্রাসের মাধ্যমে বসে থাকতে চেয়েছিল। সন্ত্রাসের মাধ্যমে তারা সরকার চালাতে চেয়েছিল। সেই জায়গায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় সেসব সমস্যার সমাধান করা হয়েছে। সন্ত্রাসবাদীরা এখন মূলস্রোতে ফিরে এসেছে। ব্রু রিয়াং শরণার্থীদের দীর্ঘ বছরের সমস্যা সমাধান করা হয়েছে। তাদের প্রায় ৮০০ কোটি টাকার প্যাকেজ দিয়ে ১২টি জায়গায় পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
সভায় উপস্থিত ছিলেন শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রী সান্তনা চাকমা, প্রাক্তন মন্ত্রী তথা বিধায়ক রামপদ জমাতিয়া, গোমতী জেলার সভানেত্রী সবিতা নাথ, মন্ডল সভাপতি অমর জমাতিয়া, প্রাক্তন মন্ডল সভাপতি বাগানহরি মলসম সহ অন্যান্য জনজাতি নেতৃত্ব এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিগণ। এদিন এই সভায় ৫৩টি পরিবারের ১৯২ জন ভোটার ভারতীয় জনতা পার্টিতে যোগদান করেন। তাদের বিজেপি দলে বরণ করে নেন মুখ্যমন্ত্রী সহ অন্যান্য নেতৃত্ব।