আগরতলা : রাজধানীর পশ্চিম প্রতাপগড় লস্কর পাড়ায় শনিবার রাতে হাওড়া নদীর জলে ডুবে মৃত্যু এক ব্যক্তির। মৃত ব্যক্তির নাম রমজান আলি। রবিবার সকালে হাওড়া নদীর জল থেকে উদ্ধার হয় মৃতদেহ। এলাকার এক ব্যক্তি জানান শনিবার রাত্রি ৯ টা নাগাদ বাড়ি থেকে বের হয় রমজান আলি। বাড়ি থেকে বেরিয়ে বাড়ির অদূরে পার্কে যায় সে। এলাকার অনেকে রমজান আলিকে পার্কে দেখেছে। ওনার ধারনা পার্কের সিকিউরিটি গার্ডের সাথে রমজান আলির ঝামেলা হয়েছে। কারন পার্কে রমজান আলির জুতা সহ রক্তের চিহ্ন রয়েছে। পাশাপাশি হাওড়া নদীর পাড়েও রক্তের চিহ্ন রয়েছে। ঐ ব্যক্তির ধারনা হয়তো রমজান আলিকে হত্যা করে হাওয়া নদীর জলে ফেলে দেওয়া হয়েছে। অন্যথায় নিজের প্রান বাঁচাতে রমজান আলি হাওড়া নদীর জলে ঝাপ দিয়েছে। তবে রমজান আলি হাওড়া নদীতে যখন পড়েছিল তখন সে জিবিত ছিল। ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিও থেকে তা স্পষ্ট। সেই ভিডিও-তে দেখা যায় রমজান আলি রাতের বেলায় হাওড়া নদীর জলে নিজেকে বাঁচাতে মরিয়া চেষ্টা করছে। কে বা কারা পুলিসকে খবর দেয়। যথারীতি পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের হাওড়া নদীর জলে নেমে রমজান আলিকে বাঁচানোর জন্য বলে। কিন্তু স্থানীয়রা হাওড়া নদীর জলে নামতে অস্বীকার করে। তারপর পুলিশ দমকল বাহিনীর কর্মীদের খবর দেওয়া হয়েছে বলে ঘটনাস্থল থেকে কেটে পড়ে। এরই মধ্যে হাওড়া নদীর জলে তলিয়ে যায় রমজান আলি। রাত্রি ১২ টা নাগাদ সদর মহকুমা শাসক জানতে পারেন হাওড়া নদীতে এক ব্যক্তি পড়ে গেছে। সাথে সাথে সদর মহকুমা শাসক পুলিশ দমকল বাহিনীর কর্মী এবং এনডিআরএফ জওয়ানদের খবর দেন। তারপর শুরু হয় হাওড়া নদীর জলে তল্লাসি অভিযান। অবশেষে রবিবার সকালে হাওড়া নদীর জল থেকে উদ্ধার হয় রমজান আলির মৃতদেহ। সদর মহকুমা শাসক জানান রমজান আলির মৃতদেহ হাসপাতালে প্রেরন করা হয়েছে। রমজান আলির মৃত্যুর জন্য যারা রমজান আলিকে জলে ঝাপ দিতে বাধ্য করেছে কিংবা জলে ফেলে দিয়েছে তারা যেমন দায়ি তেমনি পুলিস দায়ি। কারন রাতের বেলায় পুলিশ যখন ঘটনাস্থলে গিয়েছিল, তখন যদি পুলিশ হাওড়া নদীর জলে নেমে রমজান আলিকে উদ্ধার করে নিত। তাহলে রমজান আলি প্রানে বেচে যেত। তাই দাবি উঠেছে শনিবার রাতের বেলায় যে সকল পুলিশ কর্মী ঘটনাস্থলে গিয়েও কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করে নি, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। পাশাপাশি রমজান আলির বাড়ির পাশে থাকা সিকিউরিটি গার্ডদের আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ চালানো হোক। তাহলে আসল রহস্য বেরিয়ে আসবে। কারন পার্কের অভ্যন্তরে রমজান আলির জুতা সহ রক্তের চিহ্ন রয়েছে। তার থেকে স্পষ্ট অনুমান করা যায় রাতের বেলায় পার্কের অভ্যন্তরে রমজান আলির সাথে কারোর সংঘর্ষ হয়েছে। এখন দেখার পুলিশের তদন্তে কি রহস্য বেরিয়ে আসে।
হাওড়া নদীর জলে ডুবে রমজান আলির মৃত্যুর জন্য দায়ি কে?
3