আগরতলা: আগরতলা পুর নিগমের নির্বাচনকে সামনে রেখে পুর নিগমের ৫১ টি আসনের মধ্যে ৪৯ টি আসনের জন্য প্রার্থীর নাম ঘোষণা করল প্রদেশ কংগ্রেস। বামেদের সাথে জোটের আশা জিইয়ে রেখে এইদিন ৪৯ আসনে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়েছে। পুর নিগমের ২৬ আসনে বাম প্রার্থীরা মনোনয়ন পত্র জমা দেওয়ার পর সিপিআইএম রাজ্য সম্পাদক বলেছিলেন কংগ্রেসের সাথে বামেদের জোট হবে। তাই বাকি ২৫ আসনের মধ্যে বেশিরভাগ আসনে কংগ্রেস প্রার্থী দেবে। কংগ্রেস নেতৃত্বদের সাথে কোন আলোচনা ছাড়াই এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে জানিয়ে দেন জিতেন্দ্র চৌধুরী। যার কারণে প্রদেশ কংগ্রেস একলা চলো নীতি অবলম্বন করতে বাধ্য হয়েছে। বুধবার প্রদেশ কংগ্রেস ভবনে সাংবাদিক সম্মেলন করে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি আশিস কুমার সাহা পুর নিগমের ৪৯ আসনের জন্য কংগ্রেস দল মনোনীত প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেন। সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি আরও জানান বাকি দুই আসনে বৃহস্পতিবার প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হবে। সাংবাদিক সম্মেলনে এইদিন বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মণ বলেন পুর নিগমের নির্বাচনে বামফ্রন্ট ও কংগ্রেসের মধ্যে জোট হলে ভালোই হতো। জোট নিয়ে অনারাও আশাবাদী ছিলেন। সিপিআইএম রাজ্য সম্পাদক জিতেন্দ্র চৌধুরীও চেয়েছিলেন এই জোট হোক। বহু সিপিআইএম কর্মীও চেয়েছিল কংগ্রেস ও বামেদের মধ্যে জোট হোক। কিন্তু কংগ্রেস নেতৃত্বর সাথে কোন ধরনের আলোচনা ছাড়াই বামেরা এক তরফা ভাবে ২৬ আসনে প্রার্থী দিয়ে দিয়েছে। কংগ্রেসের সাথে ছোট ভাইয়ের মতো আচরণ করা হয়েছে। এই জোট না হওয়ার পিছনে এক অদৃশ্য শক্তি কাজ করেছে বলেও দাবি করেন তিনি। তিনি এইদিন স্পষ্ট বলেন কংগ্রেস একটি সর্বভারতীয় দল এইটা মনে রাখতে হবে। আর আগরতলা শহর এলাকায় কংগ্রেসের শক্তি কিছুটা হলেও বেশি এইটা সকলের মানতে হবে। বামফ্রন্ট নেতৃত্বরা এখনো যদি কংগ্রেস নেতৃত্বদের সাথে জোট নিয়ে আলোচনা করে তাহলে যে এখনো জোটের সম্ভাবনা রয়েছে তা সুদীপ রায় বর্মণের বক্তব্য থেকে বুঝা যায়। অর্থাৎ বামফ্রন্ট ও কংগ্রেস উভয়ে পুর নিগমের ৫১ আসনে প্রার্থী দিলেও যদি উভয় দল আলোচনাক্রমে জোটের সিদ্ধান্ত নেয়। এবং আসন ভাগাভাগির বিষয়টি চূড়ান্ত করে, তবে উভয়ে মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহারের শেষ দিনে মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহার করে নিয়ে জোট হয়ে নির্বাচনে লড়াই করতে পারে। এখন দেখার কংগ্রেস ও বামেদের মধ্যে শেষ মুহূর্তে জোট হয় কিনা।
আগরতলা পুর নিগমের ৫১ আসনের মধ্যে ৪৯ আসনে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করলো প্রদেশ কংগ্রেস
6