আগরতলা : মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা আজ বলেছেন যে বর্তমান রাজ্য সরকার রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর উন্নয়নে এবং জনগণকে গুণমানসম্পন্ন স্বাস্থ্য পরিষেবা দেওয়ার জন্য অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।
তিনি বলেন, রাজ্য সরকার আগরতলার হাপানিয়ায় আরেকটি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
আগরতলার জিবি পন্থ হাসপাতালে আজ এক সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তব্য রাখার সময় মুখ্যমন্ত্রী তথা স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহা বলেন, আজ এজিএমসি এবং জিবি পন্থ হাসপাতালের জন্য একটি গর্বের দিন।
সংবাদ মাধ্যমকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, যদি আমরা স্বাস্থ্য দপ্তরের কথা বলি, তবে আমাদের সরকার এর উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে। আমরা কীভাবে স্বাস্থ্য খাতের আরও উন্নয়ন করতে পারি সেটা নিয়ে কাজ করছি। জিবি হাসপাতালে আমরা একটি এপেক্স টারশিয়ারি কেয়ার সেন্টার খুলেছি। আমাদের জনসংখ্যা প্রায় ৪২ লক্ষ এবং তারা সকলে এজিএমসি এবং জিবি হাসপাতালের উপর নির্ভরশীল। আমরা কীভাবে এটিকে আরও উন্নত করতে পারি এবং আমরা আরও বিশেষ পরিষেবা চালু করতে পারি সেই লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছি। পরিকাঠামো ছাড়াও আমরা বিদ্যমান সমস্যা সমাধানে কাজ করছি।
ডাঃ সাহা বলেন, জিবি পন্থ হাসপাতালে ২৪টি এনআইসিইউ এবং ১১৬টি আইসিইউ শয্যা রয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, আমরা এইমস-এর সাথে একটি এমওইউ (মৌ) স্বাক্ষর করেছি। আমি এইমস ডিরেক্টরের সাথে একটি বৈঠক করেছি, যিনি হাসপাতাল ব্যবস্থাপনায় একজন বিশেষজ্ঞ। তাঁরা এসে একটি রিপোর্ট জমা দিয়েছেন এবং রিপোর্ট অনুযায়ী এজিএমসি-তে প্রায় ৩২০ আইসিইউ শয্যা প্রয়োজন এবং আমরা সেই লক্ষ্য পূরণের জন্য কাজ করছি। আমরা একটি ১৬-শয্যার রেসপিরেটরি এবং জেরিয়াট্রিক ইনটেনসিভ কেয়ার সেন্টারের উদ্বোধন করেছি, যার সাথে মানুষের শ্বাস-প্রশ্বাসের ইস্যু যুক্ত রয়েছে। ট্রমা সেন্টার অপারেশন থিয়েটার উদ্বোধন করা হয়েছে। গতকাল অনেক সড়ক দুর্ঘটনায় আহত রোগী এখানে এসেছিলেন। এটি ২৪×৭ খোলা থাকবে। জেনারেল সার্জন, অর্থোপেডিকস, নিউরোসার্জন এবং অন্যান্যরা থাকবেন। উদ্বোধন করা হয় নতুন করে সংস্কার করা লেবার রুমের। আমরা আন্তর্জাতিক পর্যায়ের সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার জন্য কাজ করছি। এই লক্ষ্যে গর্ভবতী মা এবং শিশুদের লাইফ সাপোর্ট সিস্টেমের সাথে আরও সুরক্ষিত রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ডাঃ সাহা, যিনি রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রীও, বলেছেন যে জিবি পন্থ হাসপাতাল রাজ্যের একটি অনেক পুরনো হাসপাতাল। আমরা পুরনো বিল্ডিংটি সংস্কার করে রোগীদের পার্টির জন্য এটিকে ব্যবহার করতে পারি। আমরা কীভাবে হাসপাতালটিকে আরও উন্নত করতে পারি সে বিষয়ে আমি আধিকারিকদের সবকিছু জানিয়েছি। আমরা কর্পোরেট ধাঁচে রোগীদের পরিষেবা দিতে চাই, কিন্তু আমরা চাই না যে মানুষ এজন্য বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করুক। এখন ১৫৬টি আইসিইউ শয্যা রয়েছে এবং লক্ষ্যমাত্রা ৩২০টি। আগে এখানে ৭২৭ শয্যা ছিল, এখন ১,৪১৩টি শয্যা রয়েছে। এজিএমসি এবং জিবি হাসপাতালে একটি ক্রিটিক্যাল কেয়ার এবং কমিউনিকেবল ডিজিজ সেন্টারের কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী আরো জানান, আমাদের ইতিমধ্যে ৯টি সুপার স্পেশালিটি রয়েছে, যেখানে আরও পাঁচটি সুপার স্পেশালিটি খোলা হবে। এমবিবিএসের আসন সংখ্যা বাড়ানোর জন্যও আমরা কাজ করছি। আমরা এইমস-এর সাথে টেলিমেডিসিন শুরু করেছি। সিজা তাদের হাসপাতাল খুলবে এবং গুয়াহাটির জিএনআরসি (GNRC) হাপানিয়ায় জুট মিলে একটি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালও খুলবে। সিপাহীজলা এবং খোয়াইতে দুটি জেলা হাসপাতাল খোলা হবে।