4
- সিপাহীজলা জেলা:কলমচৌড়া থানার অন্তর্গত আশাবাড়ির নতুন বাজার এলাকায় বিএসএফ ও গ্রামবাসীর মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে সোমবার এলাকায় তীব্র উত্তেজনা দেখা দেয়। কলমচৌরা থানা এলাকার অধিন সীমান্ত এলাকা দিয়ে প্রায় সময় পাচারকারিরা পাচার বাণিজ্য করে থাকে। বিএসএফ এই পাচারকারীদের আটক করার জন্য প্রতিনিয়ত সজাগ দৃষ্টি রেখে চলছে। সোমবার ঘটনার সূত্রপাত হয় পাচারকারি সন্দেহে এক যুবককে আটক করাকে কেন্দ্র করে। পাচারকারি সন্দেহে সোমবার বিএসএফ জওয়ানরা এলাকার এক যুবককে আটক করে মারধর করে বলে অভিযোগ। এই ঘটনার পর এলাকার লোকজন উত্তেজিত হয়ে রহিমপুর-বক্সনগর সড়ক অবরোধ করে। সেই সময় ঐ রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিল বিএসএফ-এর একটি গাড়ি। উত্তেজিত এলাকাবাসী বিএসএফ-এর গাড়ি প্রত্যক্ষ করে হামলা চালায় গাড়ির উপর। তারপর গাড়ি থেকে নামিয়ে তিন বিএফএফ জওয়ানকে রাস্তায় ফেলে বেধড়ক ভাবে মারধর করা হয়। এতে গুরুতর ভাবে আহত হয় তিন বিএসএফ জওয়ান। ঘটনার খবর পেয়ে সিপাহীজলা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সহ বিএসএফ-এর উর্ধ্বতন আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। আহত বিএসএফ জওয়ানদের উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়া হয় হাসপাতালে। শেষ পর্যন্ত পুলিশের হস্তক্ষেপে এলাকার পরিবেশ স্বাভাবিক হয়। রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান জেলা পুলিশ সুপার বিজয় দেববর্মা। তিনি সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে জানান বিএসএফ জওয়ানের উপর হামলা চালানোর ঘটনায় কলমচৌড়া থানায় একটি মামলা রুজু করা হয়েছে। তিনজন বিএসএফ জওয়ান গুরুতর ভাবে আহত হয়েছে। ঘটনার সময়ের ভিডিও ফুটেজ খতিয়ে দেখে ১৯ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে তার মধ্যে ৯ জনকে সোমবার রাতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এইদিকে এই ঘটনা নিয়ে বলতে গিয়ে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী বলেন কলমচৌড়া থানা এলাকায় এই ধরনের ঘটনা কোন নতুন নয়। পাচারকারীদের ১০০ জনের মধ্যে ৯৯ জন হল শাসকদলের মদতপুষ্ট, আশ্রিত এবং আশীর্বাদ প্রাপ্ত। পুলিশ যাদের ধরে নিয়ে আসে তাদের শাস্তি হয় না। কারণ শাসকদলের দেবতুল্য কার্যকর্তাদের নাম যখন পুলিশের খাতায় উঠে তখন আগরতলা থেকে ফোন যায়। তখন গাঁজা পাতা ধরা পড়লেও হয়ে যায় লিচু পাতা, কচু পাতা। সোনা ধরা পড়লেও হয়ে যায় গাছের টুকরো। কোন শাস্তি হয় না বলে জানান তিনি। বিএসএফ জওয়ানের উপর হামলার ঘটনায় মোট ১৯ জনকে শনাক্ত করা হলেও এই সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। কারণ পুলিশ ঘটনার সময়কার ভিডিও ফুটেজ খতিয়ে দেখে বাকি অভিযুক্তদেরও শনাক্ত করার চেষ্টা করছে। ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হলেও বাকিরা এখনো পলাতক। পলাতক অভিযুক্তদের জালে তুলতে প্রয়াস জারি রেখেছে পুলিশ।