Home First post কেন্দ্র-রাজ্যের যৌথ উদ্যোগে ২৩৬ কোটি টাকার ‘মিশন কুইন আনারস’ প্রকল্পের উদ্বোধন : কৃষি মন্ত্রী

কেন্দ্র-রাজ্যের যৌথ উদ্যোগে ২৩৬ কোটি টাকার ‘মিশন কুইন আনারস’ প্রকল্পের উদ্বোধন : কৃষি মন্ত্রী

কুইন আনারসে বদলাবে ত্রিপুরার কৃষি অর্থনীতি: রতন লাল নাথ

by sokalsandhya
0 comments

আগরতলা : ত্রিপুরার বিখ্যাত জিআই-স্বীকৃত ‘কুইন আনারস’কে বিশ্বের দরবারে পৌঁছে দিতে এবং রাজ্যের কৃষকদের আর্থিক অবস্থার আমূল পরিবর্তন করতে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার যৌথভাবে ২৩৬ কোটি টাকার “মিশন কুইন আনারস, ত্রিপুরা” প্রকল্প চালু করেছে।

 

এই তিন বছর মেয়াদি প্রকল্পের লক্ষ্য রাজ্যের কৃষকদের আয় বৃদ্ধি এবং ত্রিপুরার কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করা, এই তথ্য জানিয়েছেন ত্রিপুরার কৃষি মন্ত্রী রতন লাল নাথ।

 

আজ নতুন দিল্লিতে অনুষ্ঠিত এক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় ডোনার মন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া, মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ড. মানিক সাহা ও কৃষি মন্ত্রী রতন লাল নাথের উপস্থিতিতে এই প্রকল্পের সূচনা করা হয়।

 

উদ্বোধনী ভাষণে কৃষিমন্ত্রী বলেন, ত্রিপুরা পাহাড়-পর্বত ও উপত্যকার রাজ্য। রাজ্যের প্রায় ৭০ শতাংশ এলাকা পাহাড় ও টিলা দ্বারা আবৃত, বাকি ৩০ শতাংশ সমতল ভূমি।

 

তিনি বলেন রাজ্যের অনন্য কৃষি-জলবায়ুগত অবস্থা একে ভারতের শীর্ষ আনারস উৎপাদনকারী অঞ্চলগুলির একটি করে তুলেছে। এখানে প্রধানত জনজাতি কৃষকদের দ্বারা কুইন ও কিউ জাতের আনারস চাষ করা হয়। ত্রিপুরার রাজ্যফল ‘কুইন আনারস’ জিআই ট্যাগপ্রাপ্ত এবং এটি সবচেয়ে সুগন্ধি, সোনালি-হলুদ ও আঁশহীন জাত, যা একে অন্যান্য প্রতিযোগী জাত থেকে আলাদা করে। এই অসামান্য প্রাকৃতিক গুণাগুণ থাকা সত্ত্বেও ত্রিপুরার ক্ষুদ্র কৃষকরা এখনও প্রতি কেজি মাত্র ৬ থেকে ১০ টাকা দরে মূল্য পান অথচ প্রক্রিয়াজাত বা রপ্তানিমানের কুইন আনারস দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি কেজি ৮০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হতে পারে।

 

মন্ত্রী আরও জানান, ত্রিপুরায় উৎপাদিত আনারস দেশের সেরা হিসেবে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত। কুইন পাইনঅ্যাপল একটি কাঁটাযুক্ত, সোনালি-হলুদ জাত, যা তার মিষ্টি স্বাদ, মনোরম সুগন্ধ ও রসালো আঁশের জন্য পরিচিত। এটি ভিটামিন এ, বি ও সি এবং ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, পটাশিয়াম ও আয়রনের মতো খনিজ পদার্থে সমৃদ্ধ। ত্রিপুরার কুইন জাতের আনারস রপ্তানি যাত্রা শুরু হয় ২০১৮ সালের ৩ জুন দুবাইয়ের বাজারে, তারপরে কাতার, ওমান ও বাংলাদেশে, অন্যদিকে ক্যানে সংরক্ষিত পাইনঅ্যাপল জার্মানি ও রাশিয়ায় রপ্তানি করা হয়।

 

প্রকল্প প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, ‘আনারস চাষ ও মূল্যশৃঙ্খল উন্নয়ন’ শীর্ষক ডিপিআরের বাস্তবায়নের তিন বছরের রোডম্যাপ রয়েছে ২০২৬ থেকে ২০২৮ অর্থবছর পর্যন্ত যা ত্রিপুরা কুইন আনারস প্রিমিয়াম সম্ভাবনা অর্জনের পথে থাকা প্রতিটি কাঠামোগত ঘাটতি পদ্ধতিগতভাবে পূরণ করবে।

 

তিনি বলেন, ২৩৬ কোটি টাকার প্রকল্প বরাদ্দের মধ্যে ত্রিপুরা সরকার দেবে ২০ কোটি টাকা, কেন্দ্রীয় ডোনার মন্ত্রক দেবে ১৪৫ কোটি টাকা, কৃষি মন্ত্রক দেবে ৩০ কোটি টাকা, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্প মন্ত্রক দেবে ২৫ কোটি টাকা, আপেডা দেবে ৪ কোটি টাকা, শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রক দেবে ২ কোটি টাকা, এমএসএমই মন্ত্রক দেবে ২ কোটি টাকা এবং ভারতীয় কৃষি গবেষণা পরিষদ দেবে ২ কোটি টাকা।

 

তিনি জানান প্রায় ২৩৬ কোটি টাকার এই ডিপিআর তিনটি প্রধান উপাদানে বিভক্ত যা হল চাষ ব্যবস্থাপনা, ফসলোত্তর ব্যবস্থাপনা ও প্রক্রিয়াকরণ, এবং ব্র্যান্ডিং ও বিপণন। একটি বহু-মন্ত্রণালয় সমন্বয় মডেল প্রস্তাব করা হয়েছে। ত্রিপুরা কুইন আনারস ইউএসপি (বিশেষ বিক্রয় প্রস্তাবনা) হলো এর তীব্র সুগন্ধ, আঁশহীন গঠন এবং জিআই সুরক্ষা, যা এটিকে তার প্রিমিয়াম সম্ভাবনা অর্জনে সক্ষম করবে। আমাদের পাইনঅ্যাপল চাষিরা যে পাতাগুলো আজ আবর্জনা হিসেবে ফেলে দেন, সেই পাতার মূল্য ১,৪৮৩ কোটি টাকা এই প্রকল্প সেই আবর্জনাকে সম্পদে রূপান্তরিত করে, আমরা ব্রোমেলেইন এনজাইম উৎপাদন ও সরবরাহের কাজ করব, যা আনারস থেকে সংগ্রহ করা হবে এবং এটি ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানিগুলোর কাছে বিক্রি করা হবে এবং এর পাশাপাশি, আমরা আনারস থেকে বেকারি পণ্য উৎপাদন ও বিক্রির কাজও করব।

You may also like

Leave a Comment

Are you sure want to unlock this post?
Unlock left : 0
Are you sure want to cancel subscription?
-
00:00
00:00
Update Required Flash plugin
-
00:00
00:00

SOKAL SANDHYA is the Best Newspaper and Magazine 

Edtior's Picks

Latest Articles